যে ইমেইল শুধু এক বারের কাজের জন্য
অনেক সময় অনলাইনে ছোটখাটো কোনো কাজের জন্য ইমেইল অ্যাড্রেস দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, অথচ সেখানে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাড্রেস দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। ঠিক এই কাজের জন্যই তৈরি হয়েছে ডিসপোজেবল বা ওয়ান-টাইম ইমেইল। এই পাতাটি ওপেন করার সাথে সাথেই ওপরে আপনার জন্য একটি আসল ডোমেইনের মেইলবক্স তৈরি হয়ে গেছে—কোথাও ক্লিক করার বা অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। কোনো পাসওয়ার্ড বা ফোন নম্বর ছাড়াই শুধু কপি বাটনে চাপ দিয়ে অ্যাড্রেসটি নিন, যেখানে দরকার সেখানে পেস্ট করুন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এই পাতাতেই মেসেজ পড়ুন। পেজ রিফ্রেশ করারও দরকার নেই।
নিজের ব্যক্তিগত ইনবক্সকে অবাঞ্ছিত মেইল থেকে দূরে রাখুন
অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইটে নিজের আসল ইমেইল অ্যাড্রেস দেওয়া মানে সেটির নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া। একবার অ্যাড্রেস দিলে তা আর ফেরত নেওয়া যায় না। দেখা যায়, কয়েক দিন পর থেকেই নানা রকম প্রমোশনাল অফার ও বিজ্ঞাপনে ইনবক্স ভরে যাচ্ছে, কিংবা আপনার অ্যাড্রেসটি অন্য কোনো মার্কেটিং লিস্টে চলে গেছে। এক বার ব্যবহারের এই বিকল্প অ্যাড্রেস সেই ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কাজ শেষ হওয়ার পর ওই ওয়েবসাইট যত খুশি বিজ্ঞাপন পাঠাক না কেন, তা আপনার মূল ইনবক্স পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না।
কোন কোন কাজে এই ওয়ান-টাইম মেইল সবচেয়ে কাজের?
- কোনো ব্লগ, ফোরাম বা ওয়েবসাইটে শুধু একটি আর্টিকেল পড়া কিংবা একটি ফাইল ডাউনলোড করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হলে।
- নতুন কোনো সফটওয়্যার বা অনলাইন সার্ভিস পুরোপুরি ব্যবহারের আগে শুধু ট্রায়াল দিয়ে যাচাই করার সময়।
- অনলাইন শপিং সাইট থেকে এককালীন ডিসকাউন্ট কুপন বা প্রোমো কোড সংগ্রহ করার কাজে।
- ক্যাফে, শপিং মল বা এয়ারপোর্টের পাবলিক ওয়াই-ফাই কানেক্ট করার সময়, যেখানে ইমেইল না দিলে ইন্টারনেটে ঢুকতে দেয় না।
- নিজে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি করার সময় তার সাইনআপ এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করতে।
ডিসপোজেবল ইমেইল আর টেম্পোরারি ইমেইলের পার্থক্য কী?
সাধারণত দুটি নামেই একই ধরনের সেবাকে বোঝানো হয় এবং আমাদের এই সাইটে দুটি আসলে একই প্রোডাক্ট। পার্থক্য শুধু দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে। টেম্পোরারি বা অস্থায়ী ইমেইল কথাটির জোর থাকে সময়ের ওপর—অর্থাৎ অ্যাড্রেসটি স্থায়ী নয়। আর ডিসপোজেবল শব্দের মূল কথা হলো ব্যবহারের উদ্দেশ্য—অর্থাৎ একবার কাজ মিটে গেলেই এটি ফেলে দেওয়ার জন্য তৈরি। মেয়াদের দিক থেকে বিষয়টি আরও বুঝতে চাইলে আমাদের টেম্পোরারি ইমেইল পাতাটি দেখতে পারেন। আবার নির্দিষ্ট টাইমারে চলা ইনবক্সের প্রয়োজন হলে ১০ মিনিটের মেইল ব্যবহার করা যাবে।
প্রয়োজন ফুরালে নিজেই ডিলিট করে দিন
যতক্ষণ আপনি এই ব্রাউজারটি ব্যবহার করবেন, ততক্ষণ একই অ্যাড্রেস চালু থাকবে। চাইলে যেকোনো সময় নতুন অ্যাড্রেস তৈরি করতে পারবেন এবং একসাথে একাধিক মেইলবক্স খুলে তালিকা থেকে একটি থেকে অন্যটিতে যাতায়াত করতে পারবেন। কাজ শেষ হয়ে গেলে মেইলবক্সটি ডিলিট করে দিন। ডিলিট করার সাথে সাথেই নতুন মেইল আসা বন্ধ হয়ে যাবে এবং এই ব্রাউজার থেকে সব মেসেজ মুছে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে প্রতিটি অ্যাড্রেস কেবল এক বারই তৈরি হয়—ডিলিট করার পর সেটি চিরতরে বাতিল হয়ে যায় এবং অন্য কোনো ব্যবহারকারীকে কখনোই দেওয়া হয় না। ফলে আপনার জন্য আসা কোনো মেইল পরে অন্য কারো হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে না।
ব্যবহারের আগে যে সীমাবদ্ধতাগুলো জেনে রাখা জরুরি
ডিসপোজেবল ইনবক্স শুধু আপনার আসল ইমেইল অ্যাড্রেসটি আড়াল করে, কিন্তু আপনাকে অনলাইনে অজ্ঞাতনামা বা অ্যানোনিমাস করে না—যে সাইটে সাইনআপ করছেন তারা আপনার আইপি অ্যাড্রেস এবং ব্রাউজারের তথ্য ঠিকই দেখতে পায়। তাছাড়া কিছু প্ল্যাটফর্ম ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ধরনের ডিসপোজেবল ডোমেইন গ্রহণ করে না, এবং আমরা সেই বাধা পাশ কাটানোর চেষ্টা করি না। মনে রাখবেন, এই ব্রাউজার যে কেউ ব্যবহার করলে মেসেজগুলো দেখতে পাবে এবং একবার মেইলবক্স মুছে গেলে তা রিকভার করা, পাসওয়ার্ড রিসেট করা বা মেইল এক্সপোর্ট করার কোনো উপায় নেই। তাই ব্যাংকিং, সরকারি সেবা, অফিসের কাজ বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টের রিকভারি মেইল হিসেবে এটি কখনোই ব্যবহার করবেন না। জরুরি কোনো তথ্য আসলে মেইলবক্স বন্ধ করার আগেই তা অন্য কোথাও সেভ করে রাখুন।